জাতীয়
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হেফাজতের নেতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে যাচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সরকারপ্রধানের এই রাষ্ট্রীয় সফরে হেফাজতের একজন নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকায় মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের অনেক নেতার মতে, সরকারপ্রধানের রাষ্ট্রীয় সফরে সংগঠনের একজন নেতার এভাবে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের সফরে অংশ নেওয়ার কারণে হেফাজতে ইসলামের অরাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সংগঠনটিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
তবে এ সফরে অংশ নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ পাকের অশেষ শুকরিয়া। একজন আলেম হিসেবে দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার অনুভূতি সত্যিই ভিন্ন ও অত্যন্ত আনন্দের। এই সফরে সুযোগ পেয়ে আমি আন্তরিকভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, জাপান সফরের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন দাবিদাওয়া এবং ইসলামের সার্বিক কল্যাণে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সফরের পরিসরে ধর্মীয় ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন হেফাজতের এই নেতা।
মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে যেন জাতীয় ও ধর্মীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে সরকারের সামনে উপস্থাপন করতে পারি, আল্লাহ যেন সেই তৌফিক দান করেন।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সফরে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আলেমসমাজের বিভিন্ন দাবি ও ধর্মীয় কল্যাণসংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। গত ২০ অক্টোবর দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়। সফরকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে হেফাজতে ইসলামের নেতার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংগঠনের ভেতরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা এখন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় সফরে অংশগ্রহণকে আলেমসমাজের দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখছেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, অন্যদিকে সংগঠনের অরাজনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন কিছু নেতাকর্মী। তবে এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের আনুষ্ঠানিক অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।