আইন আদালত

‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ কমেন্টটি মজা করে করেছি: আদালতে আবু বকর সিদ্দিক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ কমেন্টটি মজা করে করেছি: আদালতে আবু বকর সিদ্দিক
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর সেখানে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যটি মজা করে করেছেন বলে দাবি করেছেন মামলার আসামি আবু বকর সিদ্দিক। আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মন্তব্যটি করার পেছনে তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তবে নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য না করার ইঙ্গিত দেন তিনি। এদিকে, মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় আবু বকর সিদ্দিক এ দাবি করেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যের নেপথ্যে কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিক কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অপরাধী চক্র কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না, সে বিষয়েও তদন্তের কথা বলা হয়েছে। মামলার সঙ্গে কোনো চক্র বা নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীর (মাস্টারমাইন্ড) সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের পাশাপাশি আসামির কাছ থেকে জব্দ করা আলামতের বাইরেও অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত এবং এজাহারে উল্লেখ করা আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে আবু বকর সিদ্দিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

পুলিশের করা ওই আবেদনের শুনানির জন্য রোববার আবু বকর সিদ্দিককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামির কাছে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্য সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চান। জবাবে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘কমেন্টটি মজা করে করেছি। এখানে আমার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমার ভুল হয়ে গেছে।’ এ সময় বিচারক তাকে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করার বিষয়ে সতর্ক করেন। পরে আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে তার সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইশ একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর পড়ে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই আইডির ব্যবহারকারী হিসেবে আবু বকর সিদ্দিককে শনাক্ত করার পর রাজশাহী মহানগরের পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় তার বাবার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যের উদ্দেশ্য, এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা এবং কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।