জাতীয়

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা সম্ভব নয় : আইজিপি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা সম্ভব নয় : আইজিপি
ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, পুলিশকে শক্তিশালী করা না গেলে সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন না। নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও অপরাধসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।

পুলিশের জনবল ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এসব মাদক নির্মূল করবে কে? বর্তমানে দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। চলতি বছর ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে ২০ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এ কারণে নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইজিপি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট পথ নেই। সবাই মিলে সরকারকে সহযোগিতা না করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সমন্বয়ে এ বিষয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এসব কমিটি কাজ করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানেন, তাঁদের আশপাশে কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে এবং কারা কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমানো সম্ভব হবে।

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের বিষয়ে আইজিপি বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এ ইউনিট গুজব ছড়ানো ও মব সৃষ্টির মতো ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যাতে কেউ সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

যুবকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে বেকারত্বকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতিবছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যুক্ত হচ্ছেন। বেকারত্বের সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আইজিপি বলেন, গত দুই মাসে মাদকসংক্রান্ত কারণে তিনি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।’ এ সময় মাদকবিরোধী অভিযান কার্যকর করতে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা বাড়ানো গেলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সমাবেশে উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁরা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শান্তুসহ অন্যরা।

এ ছাড়া সমাবেশে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।