জাতীয়

মানসিক সুস্থতায় দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সংকট মোকাবিলার তাগিদ চিফ হুইপের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

মানসিক সুস্থতায় দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সংকট মোকাবিলার তাগিদ চিফ হুইপের
ছবি: সংগৃহীত

মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক প্রতিকূলতার গভীর প্রভাব রয়েছে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সহমর্মিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জীবনের অভিজ্ঞতা শুনি: সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সেমিনারে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, পারিবারিক টানাপোড়েন ও সামাজিক অবমূল্যায়ন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ অসহায় ও আর্থিকভাবে চাপে থাকা মানুষের দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার হলে তা মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বিশেষ করে তরুণদের মানসিকভাবে সুস্থ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে শুধু চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ। তরুণদের সামনে ইতিবাচক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথ তৈরি করা গেলে তাদের অনিশ্চয়তা ও হতাশা কমাতেও সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেবল চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের প্রত্যেকেরই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। মানসিক সংকটে থাকা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব আবু আহমেদ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রধান ও পরিচালক ডা. সাইফুন্নাহার সুমি, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ড. ইকবাল মাসুদ এবং ড. নায়লা পারভীন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শোনা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি এবং সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।