সারাদেশ

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামির জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। এ সময় বলা হয়, এই মুহূর্তে আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনায় জামিন দেওয়া হলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক আসামির জামিন আবেদন নাকচ করেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা মামলা নেই। তাঁর দাবি, মামলায় আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই আসামির জামিন চাওয়া হয়েছিল।

এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলার বিষয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের একটি অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের প্রকাশিত একটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা জানান। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই; বরং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে শিক্ষক গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর একদল লোক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে পাল্টা মামলা দায়ের করেন।

পাল্টা মামলা দায়েরের পর শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে-এমন খবর কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পাল্টাপাল্টি মামলাসহ সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের তদন্ত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। কোনো পক্ষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় একদিকে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে, অন্যদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে দায়ের হয়েছে পাল্টা মামলা। ফলে পুরো ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের কথা জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে।