সারাদেশ

রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তড়িঘড়ি সংস্কার, ৭ দিনেই উঠে গেল সড়কের পিচ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ এএম

রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তড়িঘড়ি সংস্কার, ৭ দিনেই উঠে গেল সড়কের পিচ
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা সড়কের পিচ ও নতুন সিমেন্টের ব্লক সাত দিনও টেকেনি। এরই মধ্যে পিচ উঠে গেছে, ভেঙে গেছে ব্লক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারও তৈরি হয়েছে গর্ত। ফলে একই অংশে নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু করতে হয়েছে। এ ঘটনায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় নিয়েও দেখা দিয়েছে সমালোচনা।

রংপুর দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত ২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে আগের চার দিন ধরে মহাসড়কের শতাধিক ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হয়। এ সময় পুরোনো ইটের পাটাতন তুলে নতুন সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে তার ওপর পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়।

দ্রুতগতিতে করা ওই সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে তখনই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও পথচারীরা। কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেখা যায়, সংস্কার করা কয়েকটি স্থানে নতুন বসানো ব্লক ভেঙে গেছে। কোথাও পিচের প্রলেপ উঠে গিয়ে আগের মতো গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে আবারও মেরামতের কাজ চলছে। ফলে একই সড়কের একই অংশে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সংস্কার করতে হচ্ছে। এতে কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটি বারবার সংস্কার করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার নষ্ট হয়ে যায়। তাদের দাবি, সারা বছর মেরামতের কাজ চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এক বাসিন্দা বলেন, মাসে ১০ বার গর্ত বন্ধ করা হলেও দুই দিন না যেতেই আবার গর্ত তৈরি হয়।

হাজীপাড়া মোড়ের ব্যবসায়ী রাকিব ইসলাম বলেন, সাত দিন আগেই সড়কের ওই অংশের ইটের পাটাতন তুলে সিমেন্টের ব্লক বসানো হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারণে সেগুলো ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেছে। এখন আবার মেরামত করা হচ্ছে। স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার কেন করা হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

একই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী বাসচালক আব্দুর রশিদ বলেন, নিম্নমানের কাজ হলে সড়ক বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এ অংশে দুর্ঘটনাও ঘটে। তাই সড়কটি ভালোভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন।

আগেও উঠেছিল অনিয়মের অভিযোগ

এই মহাসড়কের সংস্কারকাজের মান নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে রংপুর সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারকাজ ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় পায় রাজশাহীর ডন এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে ডিবিএসটি পদ্ধতিতে সংস্কারকাজ করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে তখনই প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল সড়কের প্রতি বর্গমিটারে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে পাঁচ কেজি কম পাথর ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করে। এতে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের পিচ উঠে বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়। পরে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করায় যান চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামাল পাশা বলেন, সড়কটি বারবার সংস্কার করা হলেও পিচ উঠে যাচ্ছে এবং ইট ভেঙে যাচ্ছে। ইট তুলে ব্লক বসানোর পরও তা ভেঙে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, অতিরিক্ত ভারবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে এমনটি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সড়কটির নিচের ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় ওপরের অংশে যতই সংস্কার করা হোক, তা টেকসই হচ্ছে না। তার মতে, সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করা ছাড়া স্থায়ী সমাধানের বিকল্প নেই।