অর্থনীতি

ইউরোপের ডেনিম বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

ইউরোপের ডেনিম বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি আয় কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

তবে আগস্টে রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭১ শতাংশ। এতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সংকলিত ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম আমদানি কমেছে ৪.৪০ শতাংশ।

শীর্ষে বাংলাদেশ, কমেছে বাজার হিস্যা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো প্রথম। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ অঞ্চলের মোট ডেনিম আমদানির ২৯.৪০ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ সময়ে বাংলাদেশ ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য রপ্তানি করেছে।

তবে গত বছরের একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ২৯.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি বাজারে বাংলাদেশের অংশও কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। জানুয়ারি থেকে আগস্ট সময়ে পাকিস্তান থেকে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো এবং তুরস্ক থেকে ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি হ্রাসের তুলনায় বেশি। ফলে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখলেও বাজারে নিজেদের হিস্যা বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

আগস্টে বেড়েছে রপ্তানি

বছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানি আয়ে দুর্বল অবস্থানের পর আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের আগস্টের তুলনায় এ রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭১ শতাংশ।

আগস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানিও বেড়েছে। ওই মাসে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ইউরো, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১.২৩ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। ওই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.১৭ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এ হার ছিল ৩০.৭৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম আমদানিতে যে অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৩৫ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ প্রবৃদ্ধির ফলে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে যে ৮.৫৯ শতাংশ পতন ছিল, আট মাস শেষে তা কমে ৫.৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

বাজার ধরে রাখতে দ্রুত সরবরাহে গুরুত্ব

ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান এখনো শক্তিশালী। আগস্টের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও এ বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহ করে দীর্ঘমেয়াদে এ অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ক্রেতাদের নতুন ক্রয়াদেশ পেতে দ্রুত পণ্য সরবরাহ, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং অল্প সময়ে নকশা ও পণ্যে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা সরবরাহকারী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হলো রপ্তানির গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও নমনীয়ভাবে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। আগস্টের প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।