সোশ্যাল মিডিয়া

অনেক বাচ্চাকে চুমা দিয়েছি, আমারে মারার সাহস আছে: ক্বারী তাশরীফ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

অনেক বাচ্চাকে চুমা দিয়েছি, আমারে মারার সাহস আছে: ক্বারী তাশরীফ
ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার এক শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘অনেক বাচ্চাকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’ বলে মন্তব্য করেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তুলনায় শাস্তি বেশি হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, ‘মাদরাসা ভাঙচুর করবে কেন? তার বাপের প্রতিষ্ঠান নাকি এটা? উনি চুমু দেননি, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। একজন ওস্তাদ তার শিক্ষার্থীকে কতটুকু ভালোবাসলে এমন কথা বলতে পারেন? রেজাল্ট ভালো হওয়ার পর বলেছেন, তোমাকে চুমু দেব।’

নিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এখন আমি যদি বলি, আমাদের অনেক বাচ্চাকে আমি চুমু দিয়েছি, তাহলে আমাকে মারার সাহস আছে? আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে তার সঙ্গে থাকা ১০০ লোক তাকে শেষ করে দিত। কিন্তু সে এই জায়গায় এসে যে কাজটা করেছে, এই শাহজালাল রুমি আমার দুটি ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দিয়েছে। যাই হোক, এগুলো দিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পেজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু এই কথা ঠিকই ছড়িয়ে যাবে। আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।’

অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির বিষয়ে তাশরীফ বলেন, ‘আমরা কোনো এক পক্ষে কথা বলতে চাই না। যদি ওই হুজুরের বিরুদ্ধে এমন কোনো দোষ পাওয়া যায় যে তিনি ধর্ষণ করেছেন বা করতে পারেন, তাহলে এভাবে মারা ঠিক ছিল। কিন্তু একটা চুমু দেবেন, এমন কথা বলার পর এভাবে মারে কীভাবে?’

শাস্তির মাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যতটুকু অপরাধ, শাস্তি ততটুকুই হতে পারে। একজন ওস্তাদ তার শিক্ষার্থীকে কতটুকু ভালোবাসার পর বলেছেন, রেজাল্ট ভালো হলে তোমাকে একটা চুমু দেব। চকলেটও দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালকে চড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন। তিনি ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলার মধ্যে শিক্ষক মুসলেউদ্দিনের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ।