সারাদেশ
পঞ্চগড়ে এক টাকায় চার লাউ, ঢাকায় বিক্রি ৪০ টাকায়, সিন্ডিকেট নিয়ে ডাকসু ভিপির ক্ষোভ
কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেছেন, একদিকে কৃষকদের লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্বার্থে কৃষক কার্ডের কথা বলা হচ্ছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে কৃষকদের সংকট ও কৃষি খাতের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে এসব কথা বলেন ডাকসু ভিপি।
পঞ্চগড়ের সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, পঞ্চগড়ে কৃষকেরা এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ একই লাউ ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতিটি ৪০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিপুল দামের পার্থক্য থেকে পাওয়া লাভের টাকা কার পকেটে যাচ্ছে। তার দাবি, বাজারের সিন্ডিকেট এই লাভের বড় অংশ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর পরিচয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস সবারই জানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের বৈষম্যকে তিনি ক্ষমতাসীনদের কার্ডের রাজনীতি বলে আখ্যা দেন।
কৃষি উৎপাদনের সংকট তুলে ধরে সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, সারের ডিলারশিপ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। তার দাবি, নিয়মনীতি ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীরা ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের কাছে ডিলারশিপ বিক্রি করেছেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না। এতে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। তাদের বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, সিন্ডিকেট ও ডিলারশিপ বাণিজ্যের মাধ্যমে গড়ে ওঠা মাফিয়া চক্রের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের বাঁচাতে হবে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।