সারাদেশ

‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ স্ট্যাটাস এসিল্যান্ডের, পরে হাসপাতালে ভর্তি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ স্ট্যাটাস এসিল্যান্ডের, পরে হাসপাতালে ভর্তি
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) আরিফুল রহমান শান্তর সরকারি ফেসবুক আইডি থেকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ লেখা একটি পোস্ট প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই আইডি থেকে ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ (আমি প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগ করছি) লিখেও আরেকটি পোস্ট দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগে তাঁকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত পোস্টগুলোর বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক।

ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের দাবি, এসিল্যান্ডের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হ্যাক করে এসব বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি কাউকে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে স্ত্রী সাদিয়া মৌ সূচনাকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন এসিল্যান্ড আরিফুল রহমান শান্ত। অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্ত্রীকে ইউএনওর কক্ষে রেখে বাইরে বের হন। এ সময় তাঁর সরকারি ফেসবুক আইডি থেকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক দায়ী থাকবেন’ লেখা একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি জানার পর জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন ইউএনও।

এদিকে, পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাসায় ফেরার পর এসিল্যান্ডের আচরণ আরও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি কাচের গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি একজন আনসার সদস্যকে কিল-ঘুষি মারা এবং তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল বাতেন এবং ভূমি অফিসের নাজির সাব্বির আহমেদ এসিল্যান্ডের সরকারি বাসভবনে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর এসিল্যান্ডের স্ত্রী অন্যদের ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। তিনি শুধু চিকিৎসককে ভেতরে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার অনুরোধ জানান।

পরে চিকিৎসক ঘরে প্রবেশ করলে এসিল্যান্ডের স্ত্রী তাঁর কাছে ‘হেলোসিন’ ও ‘পারকিনিল’ নামের দুটি ইনজেকশন জামালগঞ্জে পাওয়া যাবে কি না জানতে চান। স্থানীয় ফার্মেসিতে ওষুধ দুটি না পাওয়ায় চিকিৎসক সঙ্গে থাকা বিকল্প ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। তবে তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং এসিল্যান্ডের আচরণ স্বাভাবিক না থাকায় রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। সিলেটে যাওয়ার পথেও তিনি অশালীন আচরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল আমার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি আমার আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলেন, এমনকি বাচ্চাদেরও মারধর করেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে ঘুমের দুটি ইনজেকশন দিতে হয়। কিন্তু এসব ওষুধ জামালগঞ্জের কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় আমার চিন্তা আরও বেড়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে দেখি, তিনি গ্লাস ভেঙেছেন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। বাধ্য হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের আরএমওকে ফোন করে বাসায় নিয়ে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে (শনিবার) তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁর বাবা আমাকে বলেছেন, তাঁকে কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতে দিলে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন।’

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, ‘ইউএনওর ফোন পেয়ে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তিনি জানান, এসিল্যান্ড অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। পরে আমরা সেখানে গিয়ে তাঁকে শান্ত করি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়।’

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের প্রকৃত কারণ, মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়ার দাবি এবং এসিল্যান্ডের আচরণসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।