সারাদেশ
স্ত্রী ও দুই নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ গেল কৃষক আফজালের
দিনাজপুরের বিরলে পুনর্ভবা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় স্ত্রী ও দুই নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আফজাল হোসেন (৫৫) নামে এক কৃষক। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর চেষ্টায় স্ত্রী ও দুই নাতি প্রাণে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত নদী থেকে আর জীবিত ফেরা হয়নি আফজালের। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আফজাল হোসেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধুলাতৈড় ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মোহাম্মদ গেদুর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বুজরুক বসন্তপুর মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকা দিয়ে পুনর্ভবা নদী পার হয়ে একটি ডিঙি নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন আফজাল হোসেন। এ সময় নৌকায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী তারা বেগম এবং দুই নাতি-মেয়ের ছেলে আলিফ (৮) ও ছেলের ছেলে সিয়াফ (৫)।
নদী পার হয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ নৌকাটি ডুবে গেলে সবাই পানিতে পড়ে যান। এ সময় স্ত্রী ও দুই নাতিকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন আফজাল হোসেন। নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তিনি পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালান। বিশেষ করে দুই নাতিকে আগলে ধরে পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন তিনি।
এ সময় আফজালের চিৎকার শুনে নদীর আশপাশে থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে পানিতে ডুবে যাওয়া তারা বেগম ও দুই শিশু আলিফ ও সিয়াফকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে পরিবারের সদস্যদের বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টার একপর্যায়ে আফজাল হোসেন নিজেই পানিতে তলিয়ে যান।
স্ত্রী ও দুই নাতিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও নিজের জীবন রক্ষা করতে পারেননি এই কৃষক। পরিবারের প্রিয়জনদের বাঁচাতে গিয়ে তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দিনাজপুর ও বিরল ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নদীতে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ আফজাল হোসেনকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন তাঁরা। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ওবায়দুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। অভিযান শুরুর প্রায় ৪০ মিনিট পর ডুবুরি দলের সদস্য খাদেমুল ইসলাম আফজাল হোসেনের মরদেহ খুঁজে পান।
উদ্ধার অভিযান শেষে বিরল থানা-পুলিশ আফজাল হোসেনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে।
স্ত্রী ও দুই নাতির জীবন বাঁচাতে গিয়ে আফজাল হোসেনের এমন আত্মত্যাগের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কাছে তিনি আর ফিরবেন না-এই শোকের পাশাপাশি তাঁর সাহসিকতা ও পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসার ঘটনাটি স্থানীয়দের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।