জাতীয়

লং মার্চ-মিছিল না করে আলোচনায় আসুন, বিরোধী দলকে চিফ হুইপ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

লং মার্চ-মিছিল না করে আলোচনায় আসুন, বিরোধী দলকে চিফ হুইপ
ছবি: সংগৃহীত

রাজপথে লং মার্চ ও মিছিল না করে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, লং মার্চ করে যদি সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো, তাহলে সবার আগে প্রধানমন্ত্রীই সেই উদ্যোগ নিতেন। তাই রাজপথে কর্মসূচি পালন না করে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে দেশের সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলকে এগিয়ে আসা উচিত।

রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আসন্ন কপ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান চিফ হুইপ।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। সংসদ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিদের মতামত তুলে ধরা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করার উপযুক্ত জায়গা। তাই রাজপথে লং মার্চ ও মিছিলের পরিবর্তে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

একই সঙ্গে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কারা রাজপথে নামছে, সে বিষয়ে তরুণদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ওপর সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ খুব সামান্য পরিমাণে কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব বহন করতে হচ্ছে দেশটিকে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জমির উর্বরতা ও পরিবেশগত পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, যার ফলে অনেক জায়গা মরুভূমির মতো পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতির ওপর। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং কেউ কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ১ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর দাবি আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আসন্ন কপ সম্মেলনেও বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং ন্যায্য সহায়তার দাবিগুলো তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।