রাজনীতি
ইসলামকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, শুধু স্লোগান দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজে ন্যায়বিচার, সাম্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামের ন্যায়বিচার, সাম্য ও সৌন্দর্য সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে। তাঁর মতে, ইসলামকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
রবিবার বিকেলে মালয়েশিয়ার কেলাংয়ে লেমবাগা গেটওয়ে আসলি হলরুমে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মালয়েশিয়া শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সিরাত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ২৩ বছরের নবুয়তি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো দ্বীনের শিক্ষা ও দাওয়াত প্রচারের পাশাপাশি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। মক্কায় দীর্ঘ ১৩ বছর নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতা সহ্য করেও তিনি ইসলামের দাওয়াত অব্যাহত রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবী থেকে সব ধরনের বৈষম্য, জুলুম ও অবিচার দূর করে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা নবী-রাসুলদের আগমনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই সমাজের যেখানেই জুলুম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখা দেবে, সেখানেই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জালিমকে সহযোগিতা করার অর্থ হলো তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখা। অন্যদিকে, মজলুমকে সহযোগিতা করার অর্থ হলো তার অধিকার রক্ষায় পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। অসংখ্য পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে। এসব আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার, সমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কেবল বৈষম্যহীনতার স্লোগান দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ করা যাবে না; এর জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, হাজী শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর ও মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরীর (রহ.) মতো ব্যক্তিত্বরা নিজেদের সময়ে অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। তাঁদের ঐতিহাসিক ভূমিকা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানেও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সমাজ থেকে বৈষম্য ও অবিচার দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় অগ্রগতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নানা উপায়ে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের সংগঠিত শক্তি, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
এ সময় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মামুনুল হক। তিনি সংগঠনের সদস্য হয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং দেশে ও প্রবাসে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক তৎপরতা দেশের পরিবর্তন ও অগ্রগতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি মুফতি তাকী উল্লাহর সভাপতিত্বে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান কাউসার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল।
সম্মেলনে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে সম্মেলনে ইসলামের শিক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং প্রবাসীদের সাংগঠনিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।