রাজনীতি

‘জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশ রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব’: রাশেদ খাঁন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

‘জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশ রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব’: রাশেদ খাঁন
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, ক্ষমতায় না গিয়েই যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর আচরণ করতে পারে। তাই জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন রাশেদ খাঁন। পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ভিন্নমতের মানুষের প্রতি আচরণ, জানাজা ও দাফনের অধিকার এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, জামায়াত-এনসিপির আদর্শিক নেতা শহীদ ওসমান হাদি বলে গেছেন, ‘আমরা আমাদের শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই।’ কিন্তু মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের মধ্য দিয়ে সেই ইনসাফের প্রতিফলন ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের দাবি, জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে মানিক পশারীর জানাজা হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের রাতের অন্ধকারে মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে কবর খুঁড়তে হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মানিক পশারীর দুই মেয়ে ও এক বোন মিলে কবর খুঁড়ে দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনাকে জামায়াত-শিবিরের বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করে রাশেদ খাঁন লেখেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এ কারণেই দেশকে জামায়াত-শিবিরের প্রভাব ও কথিত বর্বরতা থেকে রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর দাবি, এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী। এ কারণে দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মীর রাজনৈতিক আচরণের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, জামায়াত-শিবির রাজনৈতিকভাবে কোনো সংকটে পড়লে তাদের পক্ষে অবস্থান নিতে এনসিপি ভূমিকা রাখে। তিনি এনসিপিকে জামায়াতের ‘প্রক্সি সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, দলটির জন্মের পেছনেও জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিক সংকট থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তাঁর মতে, বিভিন্ন ঘটনায় এনসিপির ভূমিকার মধ্য দিয়ে বিষয়টি প্রতিনিয়ত স্পষ্ট হচ্ছে।

পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগামী নির্বাচনে জামায়াতের কাছ থেকে আসন ছাড় পাওয়ার আশায় এনসিপির নেতাদের মধ্যে জামায়াতের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন ও তোষামোদ করার প্রতিযোগিতা চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সমঝোতার স্বার্থে জামায়াতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতি নমনীয় অবস্থান নিচ্ছেন এনসিপির একাংশের নেতাকর্মী।

এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খাঁন লেখেন, নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে দলটি বর্তমানে জামায়াতের কথিত বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়ার রাজনীতি করছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন একটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে মানুষ এমন আচরণ প্রত্যাশা করেছিল কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ ছাড়া এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কথিত চুরি, নারীসংক্রান্ত বিতর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। এসব বিতর্কের কারণে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, নিজের ফেসবুক পোস্টে মানিক পশারীর জানাজা ও দাফন নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে ভিন্নমতের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।