সারাবিশ্ব
চতুর্থ মেয়াদে লুলার জয়, অভিনন্দন জানালেন লাতিন আমেরিকার নেতারা
ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। তাঁর জয়ের পরপরই অভিনন্দন জানিয়েছেন লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নেতারা। লুলার এই বিজয়কে ব্রাজিলের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্যের মধ্যেও তাঁর জয় নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। নির্বাচনে তাঁর জয়ের পর মেক্সিকো, কিউবা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, উরুগুয়ে ও পানামার রাষ্ট্রপ্রধানেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে ব্রাজিলের জনগণের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা উঠে এসেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক! ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছে। অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট লুলা।’ তাঁর এই বক্তব্যে নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সমর্থন এবং ব্রাজিলের জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল লুলার বিজয়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, লুলার নেতৃত্বে ব্রাজিলের জনগণ শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে পথে যাত্রা শুরু করেছে, এই জয় সেই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে। কিউবার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে লুলার রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের প্রতি সমর্থন স্পষ্ট হয়েছে।
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনাও লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ব্রাজিলের জনগণের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রশংসা করেন। তাঁর এই অভিনন্দন বার্তায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের মতামত প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাস ব্রাজিল ও বলিভিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বলিভিয়া ও ব্রাজিল প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। অভিন্ন ইতিহাস এবং সাধারণ চ্যালেঞ্জ দুই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি লুলাকে ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করে তাঁর বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটিরও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ব্রাজিলের নির্বাচনী ফলাফলের প্রতি সম্মান এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের বন্ধুত্বপূর্ণ দিকটি উঠে এসেছে।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোও ব্রাজিলের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় প্রেসিডেন্ট লুলাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশের নেতাদের ধারাবাহিক অভিনন্দন বার্তায় আঞ্চলিক রাজনীতিতে লুলার গুরুত্ব এবং ব্রাজিলের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলকে লুলার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনমত জরিপ, পূর্ববর্তী নির্বাচনী নজির এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে জনমনে থাকা অসন্তোষের মতো বিষয়গুলোকে ছাপিয়ে তাঁর জয় ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের প্রেক্ষাপটে লুলার বিজয়কে বামপন্থী রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার পর ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তিনি ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। তাঁর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভোটার। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী জইর বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট, যা সংখ্যার হিসাবে ৫ কোটি ৯০ লাখের কিছু বেশি।
এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের রাজনীতিতে লুলার অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর নতুন মেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নিয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নেতাদের অভিনন্দন বার্তা থেকে স্পষ্ট, লুলার এই বিজয় শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।