সারাবিশ্ব

ইরানের সঙ্গে তেহরানে বৈঠকে বসছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

ইরানের সঙ্গে তেহরানে বৈঠকে বসছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে চার দেশের এই যোগাযোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও এতে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

এদিকে, বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বৈঠকের আলোচ্যসূচি ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে এটি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই এ আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সৌদি আরবের জন্য এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে ইয়েমেন সংকটের বিস্তার রোধ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা কমানোও রিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও তুরস্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।

তেহরানের এই বৈঠকে চার দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক উদ্বেগ তুলে ধরার পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাত নিরসনের উপায়, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তবে আলোচনায় ঠিক কোন কোন বিষয় স্থান পাবে এবং বৈঠক শেষে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তেহরান সফর আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এই উদ্যোগ উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান, আলোচনার অগ্রগতি এবং পরবর্তী সময়ে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর।