রাজনীতি

‘শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই’, তাহলে মানিক পশারীর দাফনে বাধা কেন: রাশেদ খাঁন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

‘শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই’, তাহলে মানিক পশারীর দাফনে বাধা কেন: রাশেদ খাঁন
ছবি: সংগৃহীত

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ, ভিন্নমতের প্রতি দলটির আচরণ এবং এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এনসিপিকে জামায়াতের ‘প্রক্সি সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে দলটির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন এই রাজনৈতিক নেতা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মানিক পশারীর দুই মেয়ে ও এক বোনকে মোবাইল ফোনের আলোয় কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপির আদর্শিক নেতা শহীদ ওসমান হাদী বলে গেছেন, আমরা আমাদের শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই! আসলে সেই ইনসাফ কি মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া? জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে মানিক পশারীর জানাজা হতে দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। এমনকি মোবাইলের আলোতে দুই মেয়ে ও এক বোন মিলে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করেছে। এই হলো জামায়াত-শিবিরের বর্বরতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় না গিয়েই যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আরও বর্বর হবে। তাই সবার নৈতিক দায়িত্ব জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করা।’

এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর দাবি, দলটির ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী। এ প্রসঙ্গে তিনি এনসিপিকে জামায়াতের ‘প্রক্সি সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে জামায়াত-শিবিরের মতো আচরণ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবির কোনো রাজনৈতিক সংকটে পড়লে তাদের রক্ষায় এনসিপি সামনে আসে। তাঁর ভাষ্য, দলটির জন্মের পেছনেও এমন একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের কাছ থেকে আসন ছাড় পাওয়ার প্রত্যাশায় এনসিপির নেতাদের মধ্যে জামায়াতের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করার প্রতিযোগিতা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির ‘নতুন বন্দোবস্ত’ ধারণার সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি বর্তমানে জামায়াতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার রাজনীতি করছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন একটি রাজনৈতিক দলের কাছে মানুষ এমন আচরণ প্রত্যাশা করেছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে এনসিপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চুরি ও নারী এবং আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে কটাক্ষ করেন রাশেদ খাঁন। এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর জানাজা ও দাফন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

তবে মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এনসিপি সম্পর্কে রাশেদ খাঁনের করা দাবিগুলো তাঁর ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ করা যাবে।