সারাদেশ
হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জুয়েল হোসেন নীরবকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা শাহেদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি কিল-ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত জুয়েল হোসেন নীরব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি। তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, এর আগে মুঠোফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার জের ধরেই রোববার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে জুয়েলকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শাহেদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে চেয়ার নিক্ষেপ, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের মতো জরুরি চিকিৎসাসেবার স্থানে এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে ভিডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, হাসপাতালের ভেতরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার দৃশ্য হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। হাসপাতালের ভেতরে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা মারামারির ঘটনা ঘটলে কিংবা এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শাহেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ দায়ের, পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও এখনো জানা যায়নি।