জাতীয়

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও কৃষি আধুনিকীকরণে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে টোকিওর হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব আহ্বান জানান। বৈঠকে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাক্ষাতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানান।

সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাইকার প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জনগণের জীবনমান আরও উন্নত করতে জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পারস্পরিক আস্থা, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ধারাবাহিকতা দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে জাপানের অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদনপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সময়োপযোগী বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে একটি ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কৃষি খাতের আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের উন্নয়নেও জাপানের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ। এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে গত বছরের মতো এবারও বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য জাপানের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে এ ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

জবাবে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দুই দেশের বিদ্যমান উন্নয়ন সহযোগিতা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি গঠন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কৃষি ও শিল্প খাতের অগ্রগতির মাধ্যমে দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।