সারাবিশ্ব
নোবেল পাইনি, তাই নরওয়ের কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে দেখতে চাই না: ট্রাম্প
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে ইউরোপের দেশ নরওয়ের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়েকে ‘বাজে দেশ’ আখ্যা দিয়ে দেশটি থেকে কোনো অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মিশিগানের পোর্ট হিউরন শহরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্পের এমন বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রবিবারের ওই জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, নরওয়ে একটি বাজে দেশ। আসলে নরওয়ে একটি জঘন্য দেশে পরিণত হয়েছে।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ দেওয়া হলেও নরওয়ের ক্ষেত্রে তিনি তা চান না। এর কারণ হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘কারণ আমি নোবেল পুরস্কার পাইনি। তাই আমি নরওয়ে থেকে কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে দেখতে চাই না।’
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে নরওয়ের প্রতি তাঁর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে নরওয়ের নাগরিকদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যটি রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর ভিত্তিতে বাস্তব কোনো নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বারবার দাবি করেছেন, এ পুরস্কারের জন্য তিনি যোগ্য। তবে পুরস্কার না পাওয়ায় তাঁর অসন্তোষ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানকারী কমিটির সিদ্ধান্তকে ঘিরেও ট্রাম্পের ক্ষোভের বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি পুরস্কার না পাওয়াকে ‘লজ্জাজনক ও অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বিশ্বশান্তিতে নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, পুরস্কারটি তাঁরই প্রাপ্য ছিল। এই প্রেক্ষাপটে নরওয়ের বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে নোবেল পুরস্কার না পাওয়াজনিত অসন্তোষের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে সোমবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নরওয়ে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস্পেন বার্থ ইদে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নোবেল কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নরওয়ের সরকার কমিটির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অর্থাৎ, নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত সরকারের নয়; এটি স্বাধীন কমিটির এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, নোবেল কমিটির স্বাধীনতার বিষয়টি ট্রাম্পের অজানা নয়। তা সত্ত্বেও বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নরওয়ের এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির সরকার নোবেল শান্তি পুরস্কার নির্বাচনপ্রক্রিয়া থেকে নিজেদের দূরত্ব এবং কমিটির স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে হাইতি ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সম্পর্কে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নরওয়ের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর এখন নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আসে কি না এবং ওয়াশিংটন ও অসলো-দুই দেশের সম্পর্কের ওপর এ বিতর্কের কোনো প্রভাব পড়ে কি না। তবে নরওয়ের পক্ষ থেকে নোবেল কমিটির স্বাধীনতার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেশটির সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়।