রাজনীতি

আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শকের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার ২৬ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর মুগদায় আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।

আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে তারা ধরে নেবেন, তারেক রহমানের নির্দেশে আইজিপি এমন মন্তব্য করেছেন। আর তারেক রহমানের নির্দেশে বক্তব্য না দিয়ে থাকলে আইজিপিকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

আইজিপির মন্তব্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনী অপমানিত হয়েছে বলে দাবি করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাঁড়িয়ে জনগণের পুলিশ হতে চায়। কিন্তু আইজিপি পুলিশকে আবার লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ারের বাহিনী ও চাঁদাবাজের বাহিনীতে পরিণত করতে চাইছেন।

পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপির কথায় তাদের চলার প্রয়োজন নেই। আইজিপি আসবেন, যাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। তাদের রক্ত ও পোশাকের বিনিময়ে কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তারা যেন আইজিপির স্বার্থের বলি না হন এবং কোনো অবৈধ আদেশ পালন না করেন। জনগণ ঘুরে দাঁড়ালে লাঠি বা বারুদ দিয়ে তাদের ঠেকানো যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি, আইজিপির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশ ও মন্ত্রীরাও নিরাপদ নন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, মন্ত্রী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের অস্ত্র নিয়ে চলাচলের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, রাত ৯টার পর ঢাকা শহরে বের হতে অনেকে ভয় পান। বাইরে বের হলে কারও কারও জামাকাপড় খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। খুলনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে পুলিশ সদস্যরাও বাইরে বের হতে ভয় পান বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মন্ত্রীরা দায়িত্ব পাওয়ার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মন্ত্রীর স্ত্রী, ভাই, সন্তান ও আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মন্ত্রীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তিনি বলেন, কতজন মন্ত্রীর সন্তান দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। মন্ত্রীরা নিজেরাই যদি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা না রাখেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে আস্থা রাখবে। দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও তাদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে মুগদাবাসীকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন। চাঁদাবাজি ও বিএনপির সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন।

বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে নির্বাচনের দিকে এগোনোর চেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ১৭ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন তিনি। তার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির দলটির নেই। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সালাহউদ্দিনের পরামর্শে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।