জাতীয়

ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা শুরু করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা শুরু করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতির কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনমুখী করে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করতে হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের (বিএসসিআরএস) আয়োজনে বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাতের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত সময়ে অপরিকল্পিত ব্যবস্থা ও দুর্নীতির কারণে এ খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বরাদ্দ দিয়েছে। তবে কেবল বরাদ্দ বাড়ালেই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়; বরং বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জনগণ আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ যেন চিকিৎসা নিতে না পেরে দুর্ভোগের শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।

দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদেশে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যে দেশের হাসপাতাল ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলা, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতির প্রসার ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ভেতরেই আরও বেশি মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

কোলন ও রেক্টাল সার্জারিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। নতুন প্রজন্মের সার্জন ও চিকিৎসকদের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তাঁদের দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও এগিয়ে যাবে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে, বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬-এর মতো পেশাগত সম্মেলন চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি, কোলন ও রেক্টাল সার্জারির অগ্রগতি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার নতুন দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও এ ধরনের সম্মেলন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।