সারাদেশ

‘সাঈদী রাজাকার ছিলেন না, অর্থের প্রলোভনে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিলেন’


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

‘সাঈদী রাজাকার ছিলেন না, অর্থের প্রলোভনে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিলেন’
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফনকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে মানিক পশারীর ছোট ভাই চাঁন মিয়া পশারীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, অর্থের প্রলোভনে তাঁর বড় ভাই সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিলেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে চাঁন মিয়া বলেছেন, তাঁকে কেউ অর্থের প্রলোভন দেখায়নি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে যান সাংবাদিকেরা। সেখানে চাঁন মিয়া পশারীর কাছে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চান তাঁরা। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চাঁন মিয়া স্বীকার করেন, ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্য তাঁরই।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় চাঁন মিয়া পশারী দাবি করেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সাঈদীর বয়সও কম ছিল। চাঁন মিয়া আরও দাবি করেন, রাজাকার ছিলেন রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা ও সেকেন্দার শিকদারের মতো ব্যক্তিরা। তবে তাঁর এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

পুরোনো সাক্ষাৎকারে অর্থের প্রলোভনে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ থাকলেও এবার এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন চাঁন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমারে কেউ টাকার লোভ দেখায় নাই। ভাই রাজি হইছে কিনা আমি জানি না।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পুরোনো সাক্ষাৎকারে করা দাবি এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য সামনে এসেছে।

মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চাঁন মিয়া বলেন, সে সময় তাঁর ভাই ম্যাট্রিক পাস করেছিলেন। তাঁদের বয়স তখন কম ছিল এবং তাঁরা জঙ্গলে গিয়ে আত্মগোপন করে থাকতেন বলেও জানান তিনি। তবে মানিক পশারীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কোনো নথিপত্র বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে চাঁন মিয়া আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তাঁর নাম তাঁর বড় ভাই মানিক পশারী অন্তর্ভুক্ত করেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি সাঈদীর পক্ষে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করেন। চাঁন মিয়ার অভিযোগ, সাঈদীর প্রশংসা করতেন বলেই তাঁর নাম মুক্তিবাহিনীর তালিকায় রাখা হয়নি।

মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফনকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে চাঁন মিয়ার পুরোনো সাক্ষাৎকার ও সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত, মামলার নথি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়গুলোকে ব্যক্তিগত বক্তব্য থেকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। চাঁন মিয়ার সাম্প্রতিক দাবিগুলোও সংশ্লিষ্ট নথি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।