খেলা
প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়লেন হ্যারি কেইন
কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা হ্যারি কেইন। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এই পুরস্কার জিতে কিংবদন্তিদের এলিট ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন ইংলিশ এই স্ট্রাইকার।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের শহর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে জমকালো আয়োজনে কেইনের হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনায় মোড়ানো ব্যালন ডি’অরের ট্রফি। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা।
১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংলিশ ফুটবলার স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। তার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার প্যারিসের বিখ্যাত শাতলিয়ে থিয়েটারের পরিবর্তে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি। নিজ শহরের ঝলমলে আয়োজনে সব আলো কেড়ে নেন হ্যারি কেইন।
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামালের সঙ্গে আলোচনায় থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের কথার লড়াই থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন কেইন। পুরস্কারের শীর্ষ দশে এই তিন তারকার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর হাত থেকে ট্রফি নিয়ে এমবাপে ও ইয়ামালকে পেছনে ফেলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।
পেশাদার আচরণের জন্য পরিচিত কেইন পুরস্কার গ্রহণের মঞ্চে উঠে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ বক্তব্যে সাবেক ক্লাব, সাবেক সতীর্থ এবং বর্তমান দলের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নিজের শহরে পুরস্কার পাওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি দিনটিকে তার জন্য আরও বিশেষ করে তোলে। ছেলের এই অসাধারণ অর্জনের সাক্ষী হন কেইনের বাবা-মাও।
২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর এই প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে উঠল ব্যালন ডি’অর। একই সঙ্গে ৪৫ বছর পর জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে ফিরল ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এই সম্মান।
ব্যালন ডি’অরের পাশাপাশি ২০২৫ থেকে ২০২৬ মৌসুমে ৯০ গোল করে সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারও জিতেছেন কেইন। অন্যদিকে, লন্ডন থেকে খালি হাতে ফিরেছেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জিতে কিছুটা হলেও আক্ষেপ কমিয়েছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন কেইন। ৬৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৭৩। এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল, যা এক মৌসুমে ক্লাবটির কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় এবং বায়ার্ন মিউনিখ পৌঁছে যায় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে।