সোশ্যাল মিডিয়া

বাবার অভিযোগের পর তাশরীফের স্ট্যাটাস, ‘মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

বাবার অভিযোগের পর তাশরীফের স্ট্যাটাস, ‘মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে’
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় বক্তা হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়া এবং তাঁর খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাশরীফ। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে।’ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে দেওয়া তাঁর এই স্ট্যাটাস ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছেলে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন তাঁর বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। সাক্ষাৎকারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, অসুস্থ অবস্থায় ছেলের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েও পাননি। এমনকি ছেলে তাঁর নিয়মিত খোঁজখবরও রাখেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাওলানা হেদায়েতুল্লাহর অভিযোগ, ছেলের পরামর্শে তিনি মসজিদের ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। সে সময় প্রতি মাসে তাঁকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি আর কোনো টাকা পাননি বলে দাবি করেন হেদায়েতুল্লাহ।

ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছেলেকে বড় করে তোলার পেছনে নিজের ত্যাগ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি। হেদায়েতুল্লাহ বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে মাওলানা ও হাফেজ বানিয়েছেন। ছেলেবেলায় তাশরীফের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিয়েছিল বলে জানান তিনি। ওই সময় অর্থের অভাবে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে ছেলেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের আর্থিক অসচ্ছলতা ও ছেলের চিকিৎসার জন্য করা সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ জানান, ইমামতির সামান্য আয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। এ কারণে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ছেলে সুস্থ হয়ে ওঠে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তিনি ছেলের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, ছেলে তখন টাকা না দিয়ে জমি কেনার কথা বলেছিলেন। ছেলেকে লেখাপড়া করানো, লালন-পালন ও চিকিৎসার জন্য নিজের জীবনের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত কিছু করার পরও অসুস্থ অবস্থায় কেন ছেলের কাছ থেকে সহযোগিতা পাবেন না?

এদিকে বাবার এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আলোচনায় এসেছে। ‘মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে’-তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্ট্যাটাসের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নয়। তবে বাবার অভিযোগ এবং এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার ঘটনায় ওই শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। নতুন করে বাবার অভিযোগ এবং তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। তবে পারিবারিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা সম্ভব হবে।