সোশ্যাল মিডিয়া

মাকে ভিডিওতে এনে বাবার বিরুদ্ধে বহুবিবাহের অভিযোগ তাশরীফের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

মাকে ভিডিওতে এনে বাবার বিরুদ্ধে বহুবিবাহের অভিযোগ তাশরীফের
ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার ভরণ-পোষণ না দেওয়া ও খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ ওঠার পর এবার ছেলের পক্ষ নিয়ে মুখ খুলেছেন তাঁর মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, তাশরীফ তাঁর বাবাকে নিয়মিত অর্থসহায়তা করতেন। তবে সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধের কারণে কয়েক মাস ধরে সেই অর্থ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। একই ভিডিওতে তাশরীফের মা তাঁর স্বামী মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, নির্যাতন ও সম্পদের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাশরীফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এতে তাঁর মা দাবি করেন, ছেলে বাবার ভরণ-পোষণ দেন না কিংবা তাঁর কোনো খোঁজখবর রাখেন না-এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাশরীফের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে।

তাশরীফের মা বলেন, তাঁর ছেলে প্রতি মাসে বাবাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতেন। তবে সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হওয়ায় গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সেই টাকা দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছেন। তিনি দাবি করেন, বাবা চান না তাঁর ছেলে সামাজিকভাবে আরও প্রতিষ্ঠিত হোক, অথচ তিনি নিজে পিছিয়ে থাকুন।

তাশরীফের বাবা অন্য মানুষের কথায় প্রভাবিত হন বলেও অভিযোগ করেন তাঁর মা। তিনি বলেন, আশপাশের লোকজন তাঁর স্বামীকে ছেলের সাফল্যের সঙ্গে নিজের অবস্থানের তুলনা করে বিভিন্ন কথা বলেন। এসব কথায় প্রভাবিত হয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

ভিডিওতে তাশরীফের মাওলানা বাবা হেদায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাশরীফের মা বলেন, তিনি স্বামীর সংসারে থাকাকালীনই তাঁর স্বামী সাতটি বিয়ে করেছিলেন বলে তাঁর দাবি। পরে তিনি আরও বিয়ের কথা জানতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে তাঁর স্বামী ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাশরীফের বিরুদ্ধে তাঁর বাবার অভিযোগকে সাজানো ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য করেন তাঁর মা। তিনি দাবি করেন, ছেলে বাবার বাড়িতে গেলে যথাযথ আপ্যায়ন পান না। এ ছাড়া তাশরীফের সৎমাও পারিবারিক বিরোধে প্রভাব রাখতে পারেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর অভিযোগ, অর্থ পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর স্বামী তাঁকে বাবার বাড়ি থেকে সম্পদ নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতেন এবং নির্যাতন করতেন।

এর আগে দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছেলে তাশরীফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, ছেলে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিলেও অসুস্থ বাবার ভরণ-পোষণ ও চিকিৎসার খরচ বহন করছেন না এবং তাঁর খোঁজখবরও রাখছেন না।

সাক্ষাৎকারে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে মাওলানা ও হাফেজ বানিয়েছেন তিনি। ছেলের শৈশবে প্রস্রাবজনিত একটি শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে তাঁকে চিকিৎসা করাতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসার জন্য তাঁকে দীর্ঘদিন চেষ্টা করতে হয়েছে।

নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়েও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, অসুস্থ অবস্থায় ছেলেকে টাকা দিতে বললে তাশরীফ জমি কেনার কথা জানিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসার জন্য অন্যের কাছে সহায়তা চাইতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে চিকিৎসা করালেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে হেদায়েতুল্লাহ অভিযোগ করেন, ছেলে এখন প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁর অনেক অর্থ ও বন্ধুবান্ধব রয়েছে। কিন্তু সেই ছেলে এখন তাঁর খোঁজখবর নেন না, ফোনও ধরেন না। তাঁর দাবি, ছেলেকে কষ্ট করে বড় করে তোলার পরও এখন তিনি আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

তাশরীফের কথায় বাজারের একটি মসজিদে ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁর বাবা। হেদায়েতুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তাশরীফ তাঁকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে তিনি চাকরি ছেড়ে দিলেও পরে কোনো টাকা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়ে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তাশরীফের সহকারী ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি সমস্যার সমাধান পাননি। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেন না। একপর্যায়ে অর্থসহায়তার আশা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করার কথাও জানান তিনি।

কোরবানির ঈদের একটি ঘটনার কথাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন হেদায়েতুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, তাশরীফ একটি গরু কোরবানি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে ছেলের বন্ধুদের মধ্যে যাঁরা কোরবানি দিতে পারেন না, তাঁদের অর্থ ও মাংস দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে এক টুকরো মাংসও পাননি বলে অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ।

তাশরীফের মা ও বাবার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ছেলে তাশরীফের আর্থিক সহযোগিতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ভরণ-পোষণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে। এক পক্ষ বাবার চিকিৎসা ও ভরণ-পোষণে ছেলের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন, অন্য পক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পারিবারিক বিরোধকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি বিয়ে ও নির্যাতনসংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে উভয় পক্ষের এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।