সারাদেশ
জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা, ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে স্ত্রী তমা খাতুনকে হত্যার দায়ে স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের দড়িমহলপুর এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে। অন্যদিকে, নিহত তমা খাতুন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর এলাকার হামিদুর রহমানের মেয়ে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, তমা খাতুনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার জনি মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অটোরিকশা কেনার জন্য স্ত্রীর কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন জনি। এ নিয়ে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দেয়। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ যৌতুকের দাবির জেরে জনি মিয়া তাঁর স্ত্রী তমা খাতুনকে মারধর করেন। এতে তমার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে জনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তমার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় একই বছরের ৬ এপ্রিল নিহত তমা খাতুনের মা উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জনি মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলার বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের বেকসুর খালাস দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনি মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে স্ত্রী হত্যার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করা হলো।