সারাদেশ

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ১০ দিন পর মিলল নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা মুক্তার মরদেহ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ১০ দিন পর মিলল নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা মুক্তার মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে ‘টুপটুপ’ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে ঘটনাটিতে নিখোঁজ থাকা সর্বশেষ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ১০ জনের মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার ডিএনএ নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর সন্ধানে মঙ্গলবার সকাল থেকে রিসোর্ট এলাকায় নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পরে সেখান থেকেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন তিনতলা ‘টুপটুপ’ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর সেখান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকায় ১১ জনের নাম ছিল। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হলেও স্কুলশিক্ষিকা মুক্তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ঢাকার শ্যামলী এলাকার একই পরিবারের মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। এ ছাড়া ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার আরেক পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মৌলিহা মেহজাবিন আলভী (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামী (২৪)।

নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের’ শিক্ষিকা ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি দুই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টটিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁর দুই বান্ধবী রিসোর্ট থেকে বের হতে সক্ষম হলেও মুক্তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।

এদিকে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়া ও অপর মালিক নেওয়াজ মোর্শেদের নাম রয়েছে। তাঁরা পলাতক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রিসোর্টটির সহকারী ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং দায়ীদের ভূমিকা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দীর্ঘ ১০ দিন পর নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা মুক্তার মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানসংক্রান্ত তল্লাশি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।