সারাদেশ

মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন করল জামায়াত


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন করল জামায়াত
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হলো।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দলটির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। কমিটির দুই সদস্য হলেন দলটির সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন করে প্রতিবেদন জমা দেবেন তাঁরা।

জামায়াতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরোজপুরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সদস্য জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করতে স্থানীয় সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত শনিবার পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মানিক পশারী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার একজন সাক্ষী ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্বজনেরা।

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে মরদেহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে পরে পিরোজপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় সেটি পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।

পরে রাত ২টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় মানিক পশারীকে তাঁর নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় আরও অভিযোগ উঠেছে, বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার নারী স্বজনদেরই কবর খুঁড়তে বাধ্য হতে হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন তদন্ত শেষে কমিটি কী তথ্য তুলে ধরে এবং দলটির পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।