জাতীয়

‘ক্রসফায়ারে’ জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম

‘ক্রসফায়ারে’ জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আইজিপির এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, অসতর্কতাবশত কথাটি বলেছেন পুলিশপ্রধান। সরকারের অবস্থান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবং এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার ক্রসফায়ার সমর্থন করে না; বরং এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আইজিপি অসতর্কতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন বলে মনে করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। উনি (আইজিপি) সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু বা কাস্টডিয়াল ডেথের ঘটনাও সরকার সহ্য করবে না। এসব বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে আইনবহির্ভূত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

তিনি জানান, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। সেখানে তিনি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। এ সময় পুলিশের বলপ্রয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দেয়, আবার পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলে তাকে দুর্বল বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইজিপির এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশপ্রধানের মন্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর।

রিজভী বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পুলিশপ্রধানের মুখে ‘ক্রসফায়ার’-এর কথা শোনা তাদের ভাবিয়ে তুলছে। তাঁর বক্তব্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডবিরোধী অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে।

এদিকে আইজিপির মন্তব্যের পর জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন প্রতিক্রিয়া জানায়। বক্তব্যটি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে কঠোরতা বোঝাতেই তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আইজিপির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পুলিশি ক্ষমতার ব্যবহার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।