সারাদেশ

মামলার তদন্তের কাজে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এসআই প্রত্যাহার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

মামলার তদন্তের কাজে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এসআই প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) আনছার আলীর বিরুদ্ধে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বগুড়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআইকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস আলী জানান, গত সোমবার রাতে এসআই আনছার আলী তাঁর কর্মস্থল ছেড়ে পুলিশ লাইনসে যোগ দিয়েছেন। পুলিশ সুপারের আদেশে তাঁকে প্রত্যাহার করে সেখানে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁদের মধ্যে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ও কিছু ভিডিও তদন্তের স্বার্থে জমা দিতে চেয়েছেন ওই তরুণী। প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত এসআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া এসআই আনছার আলীর মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একাধিকবার যাতায়াতের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ওই তরুণীর স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করতে তাঁর বাড়িতে যান এসআই আনছার আলী। ওই সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন তরুণী।

তরুণীর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন আনছার আলী। একপর্যায়ে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত এসআই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে গত ৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী তরুণী বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত এসআইকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।