সারাদেশ

উখিয়ায় ৪০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ঝুঁকি এড়াতে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ পিএম

উখিয়ায় ৪০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ঝুঁকি এড়াতে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে লাগা আগুন ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনের উৎস ও নির্গত গ্যাসের প্রকৃতি শনাক্ত করতে বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। এদিকে, আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে প্রায় চার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়ার ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ মাটির নিচ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই নির্গত গ্যাসে আগুন ধরে যায়। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস নির্গত হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনার কারণ ও গ্যাসের প্রকৃতি নির্ণয়ে বুধবার বিকেলে বাপেক্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় তারা নির্গত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেন। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভূগর্ভের কোনো ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির মাধ্যমে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত গ্যাসের প্রকৃতি, উপাদান ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

বাপেক্সের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসের প্রবাহ বা চাপ জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আপাতত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উখিয়ার মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিট থেকে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ বুধবার রাত পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় চার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী কাইজার নুর জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই মঙ্গলবার ভোর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর কাজ চলছে। বুধবার রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ইনানীতে গ্যাসের আগুনের ঘটনাটি প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস নির্গমন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় ঘটনাস্থল ঘিরে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। গ্যাসের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর এর প্রকৃতি ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন।