সারাদেশ
সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল পুলিশের টহল গাড়ির সামনে
সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে পুলিশের টহল গাড়ির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে জেলার কামারখন্দ উপজেলার শহীদনগর বাগবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ।
বুধবার সন্ধ্যায় ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ জানান, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার। ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের টহল দলের সদস্য কিংবা আশপাশের থানার কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হকের ব্যানার নিয়ে কয়েকজন মিছিলের সামনের সারিতে রয়েছেন। মিছিলে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ জন অংশ নেন। এ সময় তাঁদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানসহ রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে মিছিলের সামনে দিয়ে পুলিশের একটি টহল গাড়ি চলাচল করতেও দেখা গেছে। এ ছাড়া মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। তবে মিছিলের সময় পুলিশের উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে পুলিশের দায়িত্ব পালন ও মিছিলের সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম, জেলা পুলিশের মুখপাত্র এবং পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের সরকারি মুঠোফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।