সারাবিশ্ব
আমেরিকার জাতীয় ঋণের রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন অর্থ দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) জানিয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ দশমিক ৫২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বিপুল এই ঋণের পরিমাণ দেশটির অর্থনীতি ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঋণ বৃদ্ধির সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা যায়, এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরেই দেশটির ঋণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এরপর চলতি বছরের ১৮ আগস্ট ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তা আরও বেড়ে ৪০ দশমিক ৫২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্যেও জাতীয় ঋণ বৃদ্ধির ফলে সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়া এবং সরকারি বাজেটের অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। তবে আগামী ছয় বছরের মধ্যে ঋণ ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট পূর্বাভাসটির মূল সূত্র প্রকাশের আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
জাতীয় ঋণ বৃদ্ধির পেছনে সরকারের ব্যয় ও রাজস্ব আয়ের মধ্যে ব্যবধান একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সরকার যখন কর ও অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করতে পারে না, তখন ঘাটতি পূরণে ঋণ নিতে হয়। প্রতিরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ঋণের সুদ পরিশোধের মতো খাতে বিপুল ব্যয়ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে সরকারকে ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থ সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হতে পারে। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কার্যকর আর্থিক সংস্কার না হলে জাতীয় ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ঋণ পরিস্থিতি তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য নয়, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।