সারাবিশ্ব

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে ভারতে ৫ জনের মৃত্যু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে ভারতে ৫ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দুই রাজ্যের উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে কয়েকটি উড়ান এবং ব্যাহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। তবে বুধবার বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য এসেছে। প্রাথমিকভাবে দুইজনের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং কেউ গাছের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া চলে। কাকীনাডা ও ইয়ানামসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব ছিল বেশি। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর এটি ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করে। তবে শক্তি কমে এলেও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা বজায় রয়েছে। এ কারণে নিচু এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বহু গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল ও রেল যোগাযোগেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদস্যরা কাজ করছেন।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী ওড়িশা রাজ্যেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গোপালপুর ও পুরীসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যটির ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাসহ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা, বিদ্যুতের ছেঁড়া তার ও উপড়ে পড়া খুঁটি থেকে দূরে থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।