সারাবিশ্ব

কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিসহ ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন অনলাইন প্রতারণায় জড়িত ছিলেন এবং কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

কম্বোডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবালের বরাত দিয়ে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন) সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় মোট ৩ হাজার ১০৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বহিষ্কারের সংখ্যা বেড়েছে ৪১ হাজার ৬৮৫ জন। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি ৪০০ শতাংশেরও বেশি।

বহিষ্কৃত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন চীনের নাগরিকেরা। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। এ ছাড়া আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সময়ে আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, মিয়ানমারের প্রায় দুই হাজার এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিককেও দেশটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির মতে, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথভাবে শনাক্ত না করে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের অপরাধী বা অনলাইন প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বরং কারা মানবপাচারের শিকার হয়েছেন এবং কারা জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, তা যাচাই করে তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো দেশটিতে আটকে আছেন, তার একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, নিখোঁজ বা আটকে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছে তারা।

এ ছাড়া কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দালালচক্রের প্রতারণা থেকে তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের প্রলোভন দেখিয়ে কেউ যাতে আবারও মানবপাচারের শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত দালাল ও অপরাধী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির মতে, বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই, আটকে পড়া ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে ফেরা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।