রাজনীতি
ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করায় আটক সাথীর মুক্তি দাবি মহিলা জামায়াতের
ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকার ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার পর আটক নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাঁর গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায় সংগঠনটি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দিকা সাথী আক্তারের মুক্তির দাবি জানান। বুধবার মহিলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। নাগরিকেরা জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্ব পালনের ধরন ও কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করার অধিকারও রাখেন। তাঁর মতে, সরকারের কর্মকাণ্ড কিংবা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত প্রকাশের অধিকার সাথী আক্তারেরও রয়েছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সাথী আক্তারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন নুরুন্নিসা সিদ্দিকা। তাঁর দাবি, একজন নাগরিকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক।
নুরুন্নিসা সিদ্দিকা আরও বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকার অসহিষ্ণু আচরণের পরিচয় দিয়েছে বলে মহিলা জামায়াত মনে করে। তাঁর অভিযোগ, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। অথচ ভিন্নমত প্রকাশের কারণে একজন নারীকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে ঘটনাটিকে হতাশাজনক ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বলা হয়, এর মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন মহিলা জামায়াতের এই নেত্রী।
সাথী আক্তারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে নুরুন্নিসা সিদ্দিকা হুঁশিয়ারি দেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাথী আক্তারকে দণ্ডবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে বিকেল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাজেদুল ইসলাম তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সাথী আক্তারকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য উল্লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।