সারাদেশ
ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপিপুত্র মিন্টুকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোদ্ধার জীবনহানির মতো গর্হিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলায় গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই যুবক শাকিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। এরপর চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় শাকিলের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢাকায় নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শাকিল ইসলাম হত্যা ঘটনায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একজন ছাত্রদল নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এখন নজর রয়েছে। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।