সারাদেশ

মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন, মুখ খুললেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন, মুখ খুললেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা
ছবি: সংগৃহীত

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁদের এসব বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

গত ২৪ অক্টোবর মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন দাবি করেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি সাঈদীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, ১৯৭১ সালে সাঈদী পিরোজপুরে ছিলেন না এবং সে সময় স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন না। সাঈদী একজন ভালো বয়ানকারী ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইসলামি বক্তা ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আব্দুস সালাম বাতেন আরও বলেন, মানিক পশারীর নাম সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রশাসন তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাঈদীর অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদানের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এ বিষয়ে পিরোজপুরের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হকও বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলায় মানিক পশারী সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে কী প্রক্রিয়ায় তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি বা যাচাই-বাছাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

মির্জা জহিরুল হক আরও বলেন, মানিক পশারীর নাম সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রচলিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যেও মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে দুপুরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির মধ্যে বিকেলে পুলিশ লাইনসে মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর রাতে তাঁর মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি, সাঈদীর মামলায় সাক্ষ্য এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সরকারি গেজেট, স্বীকৃতিসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ ও ব্যক্তিগত বক্তব্যের পাশাপাশি প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টির চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব।