সারাদেশ
সাজেকে ৭ দিনের অবরোধে জনজীবন বিপর্যস্ত, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ফসল
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে টানা সাত দিন ধরে অবরোধ চলায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অসুস্থ রোগী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে, অবরোধের সমর্থনে আন্দোলনে অংশ না নিলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মারধরের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। সব মিলিয়ে এলাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) ছিল বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট এলাকার সাপ্তাহিক হাটের দিন। তবে অবরোধের কারণে বাঘাইহাট ও সাজেক ইউনিয়নের সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। বন্ধ ছিল দোকানপাটও। সাপ্তাহিক হাটে কোনো দোকান বসেনি, ফলে কেনাবেচা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। সময়মতো ফসল বিক্রি করতে না পারায় অনেকের কষ্টের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অবরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন ও টায়ার জ্বালানোর ঘটনাও ঘটছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যরা অবরোধ কার্যকর করতে বিভিন্ন স্থানে এসব কর্মসূচি পালন করছেন। বুধবার সকালে বাঘাইহাট-মাচালং সড়কের ১৪ কিলো এলাকা, ২ নম্বর কালভার্ট, গঙ্গারাম লাদুমনি বাজার, বাঘাইহাট-হাজাছড়া সড়ক ও ১০ নম্বর এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয় বলে জানা গেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জ্বলন্ত ড্রাম ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে সড়ক চলাচলের উপযোগী করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কে অবরোধকারীদের অবস্থান নেই। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, অবরোধ নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। জানা গেছে, গত সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তিন সদস্যের একটি কমিটি এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যরা দুই দফা বৈঠক করেন। তবে বৈঠকগুলোতে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে জনদুর্ভোগ, আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যরা প্রথমে একটি দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু করলেও বর্তমানে তাঁরা পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের কথা বলছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নেতা বাবুধন চাকমা। তবে দাবিগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও সেগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ-সমর্থিত দুটি সশস্ত্র সংগঠন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরপর থেকে সড়কে যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, চিকিৎসাসেবা ও কৃষিপণ্য পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান এবং জনজীবন স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।