জাতীয়

হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও বিতর্কে ৩ মাস আগে মুখ খুলেছিলেন তাহসিফ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও বিতর্কে ৩ মাস আগে মুখ খুলেছিলেন তাহসিফ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরখানের তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন তাহসিফ। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ভিডিও নিয়ে তাঁর দেওয়া পুরোনো একটি সাক্ষাৎকার আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশিদ’ (Speak With Rashid) চ্যানেলে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে নিজের চাকরিজীবন ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তাহসিফ। সেখানে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে এ ঘটনায় ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে চান উপস্থাপক।

জবাবে তাহসিফ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ভিডিওটি তিনি ছড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করা হলেও ভিডিওটি তিনি ধারণ করেছেন-এমন কথা বলা হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী ধারণ করেছিলেন এবং তাহসিফ সেটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে।

পডকাস্টে তাহসিফ আরও বলেন, ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কারণে তাঁকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তাঁর ভাষ্য ছিল, ওই সময়ের সব ঘটনা তিনি প্রকাশ করতে পারবেন না; কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবু তাঁর ধারণা, অভিযোগটির সঙ্গে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টির সম্পর্ক থাকতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা-ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরিকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, রিফাত আশরাফী বিমানবাহিনীর কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন। অন্যদিকে, তাহসিফের বিরুদ্ধে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ ওঠে। তবে ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য ও অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ভিডিওটির ধারণ করা দৃশ্যের অ্যাঙ্গেল, অবস্থান এবং ক্যামেরা ঘোরানোর ধরন বিশ্লেষণ করে সেটি কোথা থেকে ধারণ করা হয়েছিল, তা শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স তদন্ত শুরু করেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের সব তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নিশ্চিত করেন উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, টঙ্গী নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে। নৌ পুলিশের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন, মরদেহটি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির।

নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২৮ বছর বলে ধারণা করা হয়েছিল। তাঁর পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা। হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাহসিফ রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তিনি নিখোঁজ হন। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে অতীতে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে সরাসরি সম্পর্কিত করে দেখার মতো কোনো নিশ্চিত তথ্যও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।