সারাবিশ্ব

সৌদি আরবের যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান? প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ঘিরে বাড়ছে আলোচনা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

সৌদি আরবের যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান? প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ঘিরে বাড়ছে আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সৌদি আরব কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান কি সরাসরি সামরিকভাবে দেশটির পাশে দাঁড়াবে, নাকি কূটনৈতিক সমর্থন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখবে-এমন প্রশ্ন ঘিরে চলছে নানা বিশ্লেষণ। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত স্বার্থের সম্পর্কও বেশ গভীর। তবে এই ঘনিষ্ঠতা মানেই যে সৌদি আরবের প্রতিটি সামরিক অভিযানে পাকিস্তান সরাসরি অংশ নেবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

অতীতেও সৌদি আরবের সামরিক উদ্যোগে পাকিস্তানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইয়েমেন সংঘাতের সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার প্রশ্নটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দেয়। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের সংসদ ইয়েমেন সংঘাতে দেশটির নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। ওই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, ঘনিষ্ঠ মিত্রের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করতে হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সামরিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। এ অবস্থায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে তুরস্কসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

তবে পাকিস্তানের পক্ষে সৌদি আরবের কোনো সংঘাতে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার ফলে পাকিস্তানের আঞ্চলিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও ইসলামাবাদকে বিবেচনায় নিতে হবে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্পর্ককে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা পাঠানোর প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শ এবং কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমেও দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সংকট দেখা দিলে পাকিস্তান কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির প্রকৃতি, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ওপর।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশ দুটির নিরাপত্তা সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৌদি আরবের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবে-এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বরং সামরিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ইসলামাবাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং দুই দেশের সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে।