সারাবিশ্ব

দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সোনার রাস্তা, পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণের উদ্যোগ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সোনার রাস্তা, পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণের উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

রূপকথার গল্পে সোনার রাস্তার কথা অনেকেই শুনেছেন। তবে এবার সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। বিশ্বের প্রথম সোনার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। দুবাইয়ের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে এই ব্যতিক্রমী আকর্ষণ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ এগিয়ে গেলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোনা দিয়ে তৈরি গয়না, স্বর্ণের বার কিংবা বিভিন্ন বিলাসবহুল সামগ্রীর সঙ্গে বিশ্ববাসী পরিচিত। কিন্তু সোনাকে কেন্দ্র করে একটি রাস্তা নির্মাণের ধারণা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দুবাইয়ের পর্যটন আকর্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে স্বর্ণপ্রেমী, বিলাসবহুল স্থাপত্যে আগ্রহী পর্যটক এবং ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা খুঁজতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে জায়গাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে পরিকল্পিত এই প্রকল্পের সঙ্গে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার ধারণা যুক্ত রয়েছে। তবে রাস্তার কোন অংশে কীভাবে সোনা ব্যবহার করা হবে, পুরো পথটি সোনায় মোড়ানো হবে কি না, কিংবা সোনার রঙ ও নকশার মাধ্যমে বিশেষ দৃশ্য তৈরি করা হবে কি না-এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্মাণতথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রকল্পটির প্রকৃত কাঠামো ও চূড়ান্ত রূপ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্বর্ণবাণিজ্যকেন্দ্র দুবাই। দীর্ঘদিন ধরে শহরটি স্বর্ণের বাজার, গয়নার দোকান এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাণিজ্যের জন্য পরিচিতি পেয়ে আসছে। বিশেষ করে দুবাইয়ের গোল্ড মার্কেট দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত। এই ঐতিহ্য ও বাণিজ্যিক পরিচিতিকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতেই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুবাইয়ের পর্যটন খাতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী স্থাপনা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা থেকে শুরু করে কৃত্রিম দ্বীপ ও বিলাসবহুল বিপণিবিতান-বিভিন্ন আকর্ষণের মাধ্যমে শহরটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নজর কেড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সোনার রাস্তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুবাইয়ের স্বর্ণবাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নতুন একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে এবং স্থানীয় ব্যবসা ও স্বর্ণবাণিজ্যের প্রচার আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে এই আকর্ষণ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পেতে পারে। তবে পর্যটকের সংখ্যা, অর্থনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, দুবাইয়ের সোনার রাস্তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শহরটির পর্যটন আকর্ষণে নতুন সংযোজন হতে পারে। তবে প্রকল্পটির নির্মাণপদ্ধতি, সোনার প্রকৃত ব্যবহার এবং উদ্বোধনের চূড়ান্ত সময়সূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত তথ্য সামনে এলেই এর বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে। রূপকথার সোনার রাস্তা বাস্তবে কেমন রূপ পায়, এখন সেদিকেই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন পর্যটনপ্রেমীরা।