সারাবিশ্ব

‘প্রায় ৭৫ বছর বয়স, মমতার এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত’: শুভেন্দু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

‘প্রায় ৭৫ বছর বয়স, মমতার এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত’: শুভেন্দু
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তাঁর বয়স এখন প্রায় ৭৫ বছর। এ বয়সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে তাঁর বিশ্রাম নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না দিতেই তিনি নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু। এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হলে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দিয়ে তদন্ত করানোর আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন নন্দীগ্রামের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর-দুই আসন থেকেই জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর আসনে তিনি পরাজিত করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে শুভেন্দু বলেন, ‘ভবানীপুর ছাড়লে যিনি আমার কাছে দু’বার হেরেছেন, তিনি দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। সেই সুযোগটা না দেওয়াই ভালো।’

মমতার বয়স নিয়ে কটাক্ষ করে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘এই বয়সে তাঁর না দাঁড়ানোই ভালো। অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৭৫। এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা।’ তাঁর এই মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এদিকে সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁদের পক্ষের হলফনামা সড়কপথে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট ট্রাকে হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কালীঘাট শিবিরের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনারা নিজেরা লড়ালড়ি করুন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা যাতে অবনতি না-হয়, সেটা দেখতে হবে।’ ঋতব্রতের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, এফআইআর দায়ের করা হলে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হবে। অধিবেশন শেষে ঋতব্রত বলেন, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হবে।

অনুষ্ঠানে নিজের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হয়। পরবর্তী সময়ে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তাঁর মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করে বিজেপি। নির্বাচনে তাঁকে জয়ী করায় এলাকার ভোটারদের ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু।

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শুভেন্দুর দাবি, তাঁকে হত্যার জন্য দুই কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ও ভাড়াটে খুনিরা গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থের জোগানদাতার পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। অর্থের উৎস নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট ও ডায়মন্ড হারবারের নাম উল্লেখ করেন এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন। তবে এসব বক্তব্য শুভেন্দুর দাবি হিসেবে বিবেচ্য; সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ওই এলাকার সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন পেয়েছে তাঁর দল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গত ছয় মাসের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ছ’মাসে যা দেখছেন, সেটা সকালের চা-বিস্কুট। ব্রেকফাস্ট এখনও বাকি। তার পরে তো লাঞ্চ।’ তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স নিয়ে কটাক্ষ, ভবানীপুর আসন ধরে রাখার ব্যাখ্যা, হলফনামা ছিনতাইয়ের অভিযোগ এবং চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত-সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এসব ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।