সারাবিশ্ব
ইসরায়েলের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নেতানিয়াহুর, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোটের ফল কারচুপির মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন টাইমস।
নেতানিয়াহুর অভিযোগ, নির্বাচনে ঘুষ, জালিয়াতি, ভোটারদের সংগঠিত করতে নিষিদ্ধ সফটওয়্যারের ব্যবহার এবং সহিংসতার মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে দেশটির কয়েকটি আরব রাজনৈতিক দল। তাঁর দাবি, আরব অধ্যুষিত কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে এবং এসব অভিযোগের পক্ষে তাঁর দলের কাছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রমাণ ও সাক্ষ্য রয়েছে।
নেতানিয়াহু জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ও জোটের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সমর্থনে শত শত প্রমাণ ও সাক্ষ্য ইসরায়েলের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে, অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, তাঁর দলের কাছে আরব দল রা’আমের প্রতীকযুক্ত নগদ অর্থভর্তি খাম, ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঘটনা এবং একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার মতো অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
নেতানিয়াহুর মতে, এ ধরনের অনিয়ম ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আরব দলগুলোর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বক্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পার্লামেন্টে তাদের প্রতিনিধিত্ব এবং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমর্থন বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে। ওই জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসনসংখ্যা ১২০। দেশটিতে সরকার গঠন করতে কোনো দল বা জোটের অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের ফল কী হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নেতানিয়াহুর অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।