সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গর্ভবতী নারীসহ নিহত ১০


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গর্ভবতী নারীসহ নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থারপার্কার জেলায় একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। বিস্ফোরণের পর অ্যাম্বুলেন্সটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থারপার্কার জেলার নাগোরপারকার তহসিলের দানো দানধাল গ্রামের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর থারপার্কার অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই অ্যাম্বুলেন্সটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের মিঠী ও নাগোরপারকারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত পাঁচজনের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নিহতদের মরদেহ এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে নাগোরপারকার তহসিলের সহকারী কমিশনার ইরাম করিম, রেসকিউ ১১২২-এর উদ্ধারকর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা উদ্ধার কার্যক্রম ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।

এদিকে, অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।

পাকিস্তানে সড়ক ও পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিবহনে ব্যবহৃত সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট এ অগ্নিকাণ্ডে একই সঙ্গে ১০ জনের প্রাণহানি এবং পাঁচজনের আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।