সারাদেশ

মাত্র ১০ বছরেই পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করল চাঁদপুরের আশ্রাফ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

মাত্র ১০ বছরেই পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করল চাঁদপুরের আশ্রাফ
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১০ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছে চাঁদপুরের ক্ষুদে শিক্ষার্থী মো. আশ্রাফ আহমেদ নবীন। দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ১০ দিনের অধ্যবসায়, নিয়মিত অনুশীলন ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার এই সাফল্য অর্জন করেছে। তার এ অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আশ্রাফ আহমেদ নবীন চাঁদপুর সদর উপজেলার পুরানবাজার পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে। সে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার পূর্ব শ্রীরামদী এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রিজের গোড়ার পশ্চিম পাশে অবস্থিত উসমান ইবনে আফফান (রা.) মডেল মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি সে মাদ্রাসাটির পঞ্চম শ্রেণিতেও অধ্যয়ন করছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি পবিত্র কুরআনের হিফজ শুরু করে আশ্রাফ। এরপর নিয়মিত অধ্যয়ন ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ সম্পন্ন করে সে। হিফজ কার্যক্রমে তাকে সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করেন মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ।

মাত্র ১০ বছর বয়সে এমন অর্জনকে আশ্রাফের নিষ্ঠা, ধৈর্য ও নিয়মিত অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সাফল্যের পেছনে মা-বাবার সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং মাদ্রাসার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক।

হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ বলেন, “মাত্র ১০ বছর বয়সে আল্লাহর অশেষ রহমতে আশ্রাফের পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তার এই অর্জনের পেছনে রয়েছে একাগ্রতা, অধ্যবসায়, মা-বাবার সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা।”

তিনি আরও বলেন, আশ্রাফ যেন পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ অনুযায়ী নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারে, সে জন্য তাঁরা দোয়া করেন। মহান আল্লাহ যেন তাকে দ্বীন ও মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করেন-এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, আশ্রাফ আহমেদ নবীনের এ সাফল্যে মাদ্রাসার পরিচালকদের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তার মা-বাবার শ্রম, ত্যাগ ও সহযোগিতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান কামনা করা হয়েছে। হিফজ সম্পন্ন করার পেছনে যেসব শিক্ষক শ্রম দিয়েছেন, তাঁদের প্রচেষ্টাও যেন আল্লাহ কবুল করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দেন-সে জন্য দোয়া করা হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আশ্রাফ ভবিষ্যতে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে দ্বীনের প্রচার-প্রসার, মানবকল্যাণ এবং দেশ ও জাতির সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও কুরআন শিক্ষায় মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।