সারাদেশ

ভাঙ্গা থানায় হামলার মামলায় প্রধান আসামি নিক্সন চৌধুরী


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

ভাঙ্গা থানায় হামলার মামলায় প্রধান আসামি নিক্সন চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে। তিনি যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজাদুজ্জামান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেককেই আসামি করা হয়েছে।

মামলার দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে হামিরদী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান খোকন মিয়াকে। এর আগে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিককে। মামলায় বলা হয়েছে, হামলা ও ভাঙচুরে পুলিশের গাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তবে মামলা হলেও মঙ্গলবার ফরিদপুরের কোনো উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কিছু জানাননি। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শামছুল আজম সাংবাদিকদের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অন্য সরকারি স্থাপনাতেও হামলার ঘটনায় আরও মামলা হবে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের এক গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গাবাসী ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা তিন দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, সোমবারের (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যে দাবি না মানলে আবার কর্মসূচি শুরু করবেন। এরপর ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ চলে। এরপর ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর আবার তিন দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

১৪ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফার প্রথম দিনে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, রাজবাড়ী-ভাঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-খুলনা রেলপথ অবরোধ করা হয়। ফলে ভাঙ্গা ও রাজবাড়ীতে তিনটি ট্রেন আটকে যায়। যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ঘোষণা দেন। একই দিন (১৪ সেপ্টেম্বর) দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। এতে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় আলগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর ফলে ওই দুই ইউনিয়নের মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে যায়।

এর পরদিন, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় দফা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে ভাঙ্গা থানা, উপজেলা কমপ্লেক্স, হাইওয়ে থানা ও সরকারি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরেই নিক্সন চৌধুরীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।