সারাবিশ্ব
ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল ভাগাভাগি করতে চাইলেন পিল্লাই
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঐতিহাসিক নুরেমবার্গ বিচার শুরুর ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের খবর পান দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভেনথাম নাভি পিল্লাই। ঐতিহাসিক ওই বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল যে আদালত প্রাঙ্গণে, সেখানেই আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি।
নোবেল জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সহকর্মীদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রসিকতা করেন পিল্লাই। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আরও একটু জোরে হাততালি দেন, তাহলে হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’
তার এই মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সহকর্মীদের মধ্যে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়।
গাজা নিয়ে প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন পিল্লাই-
বক্তব্যে পিল্লাই বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। তার ভাষায়, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে এমন একটি মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া যথাযথ হয়েছে, কারণ তারা সবাই মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেন।
সাম্প্রতিক কাজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি গাজা নিয়ে তৈরি একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনে গাজায় চলমান ঘটনাপ্রবাহকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি যাচাইয়ের কাজও প্রতিবেদনের অংশ ছিল বলে উল্লেখ করেন পিল্লাই।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। পিল্লাইয়ের বক্তব্যে এই পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার রক্ষায় তথ্যপ্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানের গুরুত্ব উঠে আসে।
‘সত্য বলার জন্য সাহসের প্রয়োজন কেন?’
নোবেল কমিটি তার সাহসের প্রশংসা করেছে উল্লেখ করে বিস্ময় প্রকাশ করেন পিল্লাই। তিনি বলেন, ‘আপনারা কল্পনা করতে পারেন, আমি কতটা বিস্মিত হয়েছিলাম।’
এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সত্য কথা বলার জন্য সাহসের প্রয়োজন হবে কেন?’
পিল্লাইয়ের মতে, আইন ব্যাখ্যা করা এবং সব তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করাই তার দায়িত্ব। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: সিএনএন