সারাদেশ

গানবাজনা ‘হারাম’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রত্যাহার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

গানবাজনা ‘হারাম’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো হারাম ঘোষণা করে নোটিশ জারি করার ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন হস্তক্ষেপ করলে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলভুক্ত তেররশিয়া পোড়াগ্রামের জামে মসজিদ কমিটি প্রায় দুই মাস আগে ‘গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠন’ শিরোনামে একটি নোটিশ প্রচার করে। সেখানে বলা হয়, গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার স্বার্থে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হলো।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা হলে সেখানে স্থানীয় আলেমরা বিয়ে পড়াতে যাবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মসজিদ কমিটির সদস্যসহ গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ৩৪ জন ওই নোটিশে স্বাক্ষর করেন এবং গ্রামের বিভিন্ন স্থানে এ সংক্রান্ত ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়।

নোটিশ জারির পর থেকে গ্রামটিতে প্রকাশ্যে গানবাজনা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠান, পিকনিক কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাউন্ডবক্সে গান বাজানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রবীণদের একটি অংশ সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করলেও তরুণদের অনেকেই এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

গ্রামের কয়েকজন নারী জানান, বিয়েবাড়িতে গীত গাওয়া কিংবা সাউন্ডবক্সে গান বাজানো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎসবের আমেজ কমে গেছে। অন্যদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে নামাজ না পড়লে জানাজা পড়ানো হবে না—এমন কথাও প্রচার করা হয়েছিল, যদিও অনেকেই এ মতের সঙ্গে একমত নন।

সম্প্রতি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ গ্রামটিতে গিয়ে ‘গানবাজনা হারাম’ লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও নোটিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল (রাজন) জানান, বিষয়টি জানার পর মসজিদ কমিটির সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইমামের নেতৃত্বে কয়েকজন প্রতিনিধি এসে জানান, তারা বিষয়টি ভালোভাবে না বুঝেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

ইউএনও আরও জানান, মসজিদ কমিটি সভা করে গানবাজনা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে লিখিতভাবে তা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এদিকে মসজিদের ইমাম আবদুল মালিক বিন খালেদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি সংক্ষেপে জানান, পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

গ্রামের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে গানবাজনা গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। তাই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন কার্যকর রাখা সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করেন।